কন্টেন্টে যান

বুক ধড়ফড় করার কারণ কী

বুক ধড়ফড় করার কারণ কী
Rate this post

বুক ধড়ফড় হচ্ছে—এটা কি হার্টের সমস্যা? অনেকেরই এই ভয় থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক ও নিরীহ। তবুও, কিছু লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আসুন সহজ ভাষায় জেনে নিই কেন এমন হয়, কখন সতর্ক হবেন এবং কী করবেন।

বুক ধড়ফড় বলতে কী বোঝায়?

বুক ধড়ফড় মানে হলো আপনার হৃদস্পন্দন আপনি অস্বাভাবিকভাবে অনুভব করছেন। যেমন—হঠাৎ বুকের ভেতর খুব জোরে ধাক্কা লাগছে, দ্রুত দৌড়াচ্ছে, অথবা ছন্দহীনভাবে লাফাচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা হৃদস্পন্দন টের পাই না। কিন্তু যখন এটি অতিরিক্ত জোরে, দ্রুত বা অনিয়মিত হয়, তখনই আমরা ‘বুক ধড়ফড়’ বলি। এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, আবার অনেকক্ষণও থাকতে পারে। অনেক সময় ব্যায়াম, উত্তেজনা বা ভয়ের কারণেও হয়—যা স্বাভাবিক। তবে যদি ঘন ঘন বা বিশ্রামের সময়ও হয়, তাহলে কারণ খোঁজা উচিত।

বুক ধড়ফড়ের সাধারণ কারণগুলো কী কী?

বুক ধড়ফড়ের পেছনে অনেক সাধারণ কারণ থাকতে পারে। নিচের টেবিলে স্বাভাবিক ও গুরুতর কারণের তুলনা দেখানো হলো:

কারণ বৈশিষ্ট্য কী করবেন
মানসিক চাপ, উদ্বেগ ভয় বা দুশ্চিন্তার সময় হঠাৎ ধড়ফড় শুরু হয়, কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যায় গভীর শ্বাস নিন, আরাম করার চেষ্টা করুন; সমস্যা বারবার হলে ঢাকা-তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে পারেন
ক্যাফেইন (চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক) অতিরিক্ত ক্যাফেইন খাওয়ার পর ধড়ফড় শুরু হয় খাওয়া কমিয়ে দিন বা বন্ধ করুন
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ভাবের সাথে ধড়ফড় রক্ত পরীক্ষা করান; প্রয়োজনে ঢাকা-তে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ দেখুন
থাইরয়েড সমস্যা (হাইপারথাইরয়েডিজম) দ্রুত ওজন কমা, ঘাম, হাত কাঁপা, ধড়ফড় থাইরয়েড পরীক্ষা করান; ঢাকা-তে হরমোন / থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ দেখতে পারেন
গর্ভাবস্থা শরীরে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হয় সাধারণত চিন্তার কিছু না; নিয়মিত চেকআপ করান; ঢাকা-তে গাইনোকলজিস্ট দেখাতে পারেন
ডিহাইড্রেশন, জ্বর, রক্তশূন্যতা শরীরে পানি কম, সংক্রমণ বা রক্তস্বল্পতার কারণে ধড়ফড় পর্যাপ্ত পানি পান করুন, জ্বরের চিকিৎসা নিন; রক্ত পরীক্ষা করান
হৃদরোগ (অ্যারিদমিয়া, ভালভের সমস্যা) বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়ার সাথে ধড়ফড় জরুরি বিভাগে যান; ঢাকা-তে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেখুন

হৃদরোগজনিত কারণ: কখন সতর্ক হবেন?

কিছুক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় হৃদরোগের কারণে হতে পারে, যেমন অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (অ্যারিদমিয়া), হার্ট ভালভের সমস্যা, বা হার্ট ফেইলিওরের ইতিহাস থাকলে। এসব ক্ষেত্রে ধড়ফড় সাধারণত অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হয়। সাথে বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, হালকা মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। আপনার যদি আগে থেকে হার্টের সমস্যা জেনে থাকে—উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বা ধূমপানের অভ্যাস—তবে ধড়ফড় হলে দ্রুত ঢাকা-তে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কোন কোন ওষুধ বা পানীয় বুক ধড়ফড় বাড়াতে পারে?

কিছু সাধারণ ওষুধ ও পানীয় বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে:

  • ঠান্ডার ওষুধ (ডিকনজেস্ট্যান্ট) – যেমন সিউডোএফিড্রিনযুক্ত ওষুধ হৃদস্পন্দন দ্রুত করতে পারে।
  • অ্যাজমা ইনহেলার – কিছু ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন সালবুটামল) ধড়ফড় বাড়ায়।
  • এনার্জি ড্রিংক ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন – এনার্জি ড্রিংকে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক থাকে যা ধড়ফড় শুরু করতে পারে।
  • কিছু ভেষজ সাপ্লিমেন্ট – যেমন মা-হুয়াং (এফিড্রা), জিনসেং, বা অতিরিক্ত গ্রিন টি-এর নির্যাস হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনি যদি কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করেন এবং ধড়ফড় অনুভব করেন, তাহলে সেটি চিহ্নিত করে চিকিৎসককে জানান। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না। প্রয়োজনে ঢাকা-তে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ বা ওষুধ দিয়েছেন এমন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বুক ধড়ফড়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?

বুক ধড়ফড়ের সঠিক কারণ জানতে ডাক্তার কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন:

  • ইসিজি (ECG): হৃদস্পন্দনের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে। এটি দ্রুত ও সহজ পরীক্ষা।
  • হল্টার মনিটর: ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে হৃদস্পন্দন রেকর্ড করে। যখন ধড়ফড় সবসময় ঘটে না, তখন এটি কার্যকর।
  • ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echo): হার্টের গঠন ও কার্যকারিতা দেখে, ভালভের সমস্যা বা হার্ট ফেইলিওর শনাক্ত করে।
  • রক্ত পরীক্ষা: থাইরয়েড হরমোন, ইলেক্ট্রোলাইট, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

এই পরীক্ষাগুলো কেবল ডাক্তারের পরামর্শেই করাবেন। নিজে থেকে কোনো পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই।

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

নিচের উপসর্গগুলোর সাথে বুক ধড়ফড় হলে দেরি না করে জরুরি বিভাগে যান বা দ্রুত ঢাকা-এর ডাক্তার তালিকা থেকে কার্ডিওলজিস্ট খুঁজে যোগাযোগ করুন:

  • বুকে ব্যথা বা চাপ
  • শ্বাসকষ্ট
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা প্রায় অজ্ঞান হওয়া
  • প্রচণ্ড মাথা ঘোরা বা দিশেহারা লাগা
  • ধড়ফড় দীর্ঘ সময় স্থায়ী হওয়া (কয়েক মিনিটের বেশি) এবং বারবার হওয়া

এছাড়াও, যদি আপনার বয়স ৬০-এর বেশি হয়, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, অথবা ধূমপান করেন, তাহলে যে কোনো বুক ধড়ফড়কে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বুক ধড়ফড় করলে কি সব সময় হার্ট অ্যাটাকের ভয় থাকা উচিত?

না, বেশিরভাগ বুক ধড়ফড়ই নিরীহ এবং সাময়িক। উদ্বেগ, ক্যাফেইন, ঘুম কম হওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও এটি হতে পারে। তবে যদি ধড়ফড়ের সাথে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। শুধু ধড়ফড় দেখেই হার্ট অ্যাটাক ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ঘুমের সময় বা রাতে বুক ধড়ফড় করলে কী করতে হবে?

রাতে বুক ধড়ফড় করলে প্রথমে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। গভীর শ্বাস নিন এবং পানি পান করুন। যদি ধড়ফড় কয়েক মিনিটের মধ্যে কমে যায় এবং অন্য কোনো উপসর্গ না থাকে, তবে তা সাধারণত উদ্বেগ বা হজমের সমস্যার কারণে হতে পারে। কিন্তু যদি ধড়ফড় বারবার হয় বা ঘুম ভেঙে যায় এবং সাথে অস্বস্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন।

বুক ধড়ফড়ের জন্য কি সব সময় ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করতে হয়?

সব সময় নয়। চিকিৎসক প্রথমে আপনার লক্ষণ, চিকিৎসা ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করে দেখবেন। প্রয়োজনে ইসিজি (ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম) করা হতে পারে। যদি ইসিজিতে কিছু না ধরা পড়ে কিন্তু উপসর্গ থাকে, তাহলে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর বা ইকোকার্ডিওগ্রামের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষার প্রয়োজন নেই—এটি নির্ভর করে ধড়ফড়ের প্যাটার্ন ও অন্যান্য ঝুঁকির উপর।

চা বা কফি খেলে কি বুক ধড়ফড় হতে পারে?

হ্যাঁ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ (চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক) বুক ধড়ফড়ের একটি সাধারণ কারণ। ক্যাফেইন হৃদস্পন্দনকে দ্রুত ও অনিয়মিত করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনে সংবেদনশীল বা পর্যাপ্ত ঘুম পান না। ধড়ফড় কমাতে চাইলে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমানো বা দুপুরের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা কার্যকর হতে পারে। তবে যদি ধড়ফড় বন্ধ না হয়, তবে চিকিৎসকের সাথে কথা বলা ভালো।

বুক ধড়ফড় কমাতে ঘরোয়া কোনো উপায় আছে কি?

হ্যাঁ, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সাময়িকভাবে ধড়ফড় কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন: গভীর শ্বাস নেওয়া (৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ডে ছাড়ুন), ঠান্ডা পানি পান করা, অথবা ভ্যালসালভা ম্যানুভার (নাক চেপে ধরে হালকা জোরে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করা) করা। তবে মনে রাখবেন, এগুলো শুধু সাময়িক উপশম। যদি ধড়ফড় ঘন ঘন হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া (কিছু লিংক বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান পাতা):

Rate this post