কন্টেন্টে যান

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া
Rate this post

হঠাৎ করে বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করে উঠল, মনে হচ্ছে হার্ট বুক ছেড়ে বেরিয়ে আসবে—এই অনুভূতি প্রায় সবারই কোনো না কোনো সময় হয়েছে। বাংলাদেশে একে আমরা ‘বুক ধড়ফড়’ বলি। অনেকেই এই মুহূর্তে ভেবে বসেন, ‘নিশ্চয়ই হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে!’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ সময়ই এটি কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। তবুও, অবহেলা করাও ঠিক নয়। এই লেখায় আমরা বুঝবো কখন এই ধড়ফড়ানি সাধারণ, কখন তা জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়, এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কী করা উচিত।

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সাধারণ কারণগুলো কী কী?

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। বেশিরভাগ কারণই সাময়িক এবং সহজেই সমাধানযোগ্য। নিচে কয়েকটি সাধারণ কারণ আলোচনা করা হলো:

  • উদ্বেগ ও মানসিক চাপ: অফিসের চাপ, পরীক্ষার ভয়, বা পারিবারিক কোনো ঘটনা—এসব কারণে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়, যা হার্টবিট দ্রুত করে দেয়। এটি খুবই সাধারণ। প্রয়োজনে ঢাকা-তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিতে পারেন।
  • ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক: অতিরিক্ত চা, কফি, বা এনার্জি ড্রিংকস হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ধূমপান বা মদ্যপানও কারণ হতে পারে।
  • ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা): শরীরে পানি কমে গেলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, ফলে হার্টকে বেশি কাজ করতে হয়। গরমে বা ডায়রিয়ার পর এটি বেশি দেখা যায়।
  • অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা): রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখতে হার্ট দ্রুত পাম্প করে। ঢাকা-তে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ এর মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন।
  • থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) মেটাবলিজম বেড়ে যায়, যার ফলে হার্টবিট বেড়ে যায়। ঢাকা-তে হরমোন / থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
  • জ্বর বা ইনফেকশন: শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে হার্টবিট বাড়ে, এটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

এছাড়াও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ইলেক্ট্রোলাইট imbalance, বা গর্ভাবস্থায়ও হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কারণ ভিন্ন হতে পারে।

কখন এটি জরুরি অবস্থা নির্দেশ করে?

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া সবসময় বিপজ্জনক নয়, তবে কিছু লক্ষণের সাথে থাকলে তা জরুরি অবস্থা নির্দেশ করে। নিচের টেবিলটি দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কখন সাধারণ এবং কখন জরুরি:

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সাধারণ কারণ ও জরুরি লক্ষণ
কারণ বিবরণ জরুরি লক্ষণ (হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন)
উদ্বেগ/স্ট্রেস মানসিক চাপের কারণে অস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যায়। বুকে চাপ বা ব্যথা থাকলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, বা বমি বমি ভাব হলে।
ক্যাফেইন চা/কফি খাওয়ার পর ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যে দেখা দেয়, ধীরে ধীরে কমে। মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা কথা বলতে অসুবিধা হলে।
ডিহাইড্রেশন পানি কম খেলে বা গরমে বেশি ঘামলে হয়, পানি পান করলে কমে। প্রস্রাব কমে যাওয়া, চামড়া শুকিয়ে যাওয়া, বা দ্রুত নাড়ি দুর্বল হয়ে পড়া।
অ্যানিমিয়া দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ত্বক, মাথা ঘোরা—এসব সাথে থাকে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বা পা ফুলে যাওয়া।
থাইরয়েড সমস্যা ওজন কমে যাওয়া, ঘাম বেশি হওয়া, হাত কাঁপা—এসব লক্ষণ থাকে। হার্টবিট খুব দ্রুত (প্রতি মিনিটে ১৫০-এর বেশি) এবং অনিয়মিত হলে।

যদি হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সাথে বুকে ব্যথা, চাপ, বা অস্বস্তি থাকে; শ্বাসকষ্ট হয়; মাথা ঘোরে বা অজ্ঞান হয়ে যান; তাহলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান। এগুলো হার্ট অ্যাটাক বা গুরুতর অ্যারিথমিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

ঘরে বসে প্রাথমিক করণীয় কী?

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন। মনে রাখবেন, এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং প্রাথমিক ব্যবস্থা মাত্র।

  • শান্ত হওয়ার চেষ্টা করুন: গভীরভাবে শ্বাস নিন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এটি ৫-১০ বার করুন।
  • পানি পান করুন: ডিহাইড্রেশন থাকলে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করুন।
  • বসে বা শুয়ে পড়ুন: মাথা ঘোরা লাগলে দাঁড়িয়ে না থেকে বসে বা শুয়ে পড়ুন।
  • ক্যাফেইন বা ধূমপান এড়িয়ে চলুন: এই মুহূর্তে চা, কফি, বা সিগারেট থেকে দূরে থাকুন।
  • ভালসালভা ম্যানুভার (Valsalva maneuver): নাক চেপে ধরে মুখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করুন (যেমন মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়া)। এটি কিছু ক্ষেত্রে হার্টবিট স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তবে এটি সব সময় কাজ করে না এবং কিছু রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

যদি ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে হার্টবিট স্বাভাবিক না হয়, বা উপসর্গ আরও বাড়ে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে?

নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি:

  • হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সাথে বুকে ব্যথা, চাপ, বা অস্বস্তি থাকলে।
  • শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বা অজ্ঞান হয়ে গেলে।
  • হার্টবিট প্রতি মিনিটে ১৫০-এর বেশি হলে এবং বিশ্রামে না কমলে।
  • বারবার (সপ্তাহে কয়েকবার) বা দীর্ঘস্থায়ী (কয়েক ঘণ্টা) হলে।
  • পূর্বে হার্টের রোগ (যেমন অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, হার্ট ফেইলিওর) থাকলে।
  • বাংলাদেশে অনেকেই ‘নিজে থেকে সেরে যাবে’ ভেবে অবহেলা করেন। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। যদি উপসর্গ বারবার আসে, তাহলে ঢাকা-তে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন। এছাড়াও ঢাকা-তে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রাথমিক মূল্যায়ন করতে পারেন।

মনে রাখবেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়।

হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগসমূহ

হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া কিছু নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ হতে পারে। এগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, তবে ভয় না পেয়ে বরং সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

  • অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (Atrial Fibrillation): হার্টের উপরের প্রকোষ্ঠ (অ্যাট্রিয়া) অনিয়মিত ও দ্রুত স্পন্দিত হয়। এটি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। লক্ষণ: হঠাৎ করে অনিয়মিত ধড়ফড়, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট।
  • সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া (SVT): হার্টের উপরের অংশ থেকে শুরু হওয়া দ্রুত হার্টবিট। এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং হঠাৎ বন্ধ হয়।
  • ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া (VT): হার্টের নিচের প্রকোষ্ঠ (ভেন্ট্রিকল) থেকে শুরু হয়। এটি আরও গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
  • হার্ট ফেইলিওর: হার্ট ঠিকমতো পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়, যার ফলে হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে।
  • মিট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস (MVP): হার্টের ভালভের একটি সমস্যা, যা অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গহীন থাকে, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ধড়ফড় হতে পারে।

এসব রোগ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, হোল্টার মনিটরিং (২৪ ঘণ্টা হার্ট রেকর্ডিং) এবং রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন। ঢাকা-এর ডাক্তার তালিকা থেকে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণ ভুল ধারণা

বাংলাদেশে হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এগুলো দূর করা জরুরি:

  • ভুল ধারণা ১: ‘এটা হার্ট অ্যাটাক, আমি মারা যাব’ — বাস্তবতা: বেশিরভাগ সময় এটি হার্ট অ্যাটাক নয়। উদ্বেগ, ক্যাফেইন, বা ডিহাইড্রেশনই মূল কারণ। তবে অবহেলা না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।
  • ভুল ধারণা ২: ‘নিজে থেকে সেরে যাবে, কিছু হবে না’ — বাস্তবতা: বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা না নিলে স্ট্রোক বা হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ভুল ধারণা ৩: ‘টেনশন করলে হয়, টেনশন কমালেই ঠিক’ — বাস্তবতা: মানসিক চাপ একটি কারণ, তবে সব সময় নয়। শারীরিক কারণও থাকতে পারে। শুধু টেনশন কমানোর চেষ্টা করলে মূল সমস্যা থেকে যায়।
  • ভুল ধারণা ৪: ‘এটা নিয়ে ডাক্তার দেখানো লজ্জার’ — বাস্তবতা: এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। লজ্জা না করে ঢাকা-তে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বা ঢাকা-তে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • ভুল ধারণা ৫: ‘ইসিজি করালেই সব ধরা পড়ে’ — বাস্তবতা: ইসিজি শুধু সেই মুহূর্তের অবস্থা দেখায়। যদি হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার সময় ইসিজি না করা হয়, তাহলে সমস্যা ধরা নাও পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে হোল্টার মনিটরিং বা ইকোকার্ডিওগ্রাফির প্রয়োজন হতে পারে।

সঠিক তথ্য জানলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঢাকা-তে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেও উপকার পাওয়া যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

হার্টবিট বেড়ে যাওয়া কি শুধুই উদ্বেগের কারণে হয়, নাকি অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে?

উদ্বেগ বা স্ট্রেস একটি সাধারণ কারণ হলেও, এটি একমাত্র কারণ নয়। শারীরিক কারণের মধ্যে রয়েছে ডিহাইড্রেশন, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা (হাইপারথাইরয়েডিজম), ইলেক্ট্রোলাইট imbalance, বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অনেক সময় অ্যারিথমিয়ার মতো হার্টের নিজস্ব সমস্যাও দায়ী হতে পারে। তাই শুধু ‘স্ট্রেস’ ভেবে অবহেলা না করে, যদি বারবার হয় বা অন্য উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে গেলে কী করা উচিত?

ঘুম থেকে জেগে বুক ধড়ফড় করলে প্রথমে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। গভীর শ্বাস নিন (৪ সেকেন্ড ধরে নিঃশ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ডে ছাড়ুন)। পানি পান করুন। যদি কয়েক মিনিটের মধ্যে কমে যায় এবং অন্য কোনো উপসর্গ (বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা) না থাকে, তবে তা সাধারণত উদ্বেগ বা নিশাচর প্যানিক অ্যাটাকের কারণে হতে পারে। কিন্তু যদি বারবার হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ইসিজি বা হোল্টার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

চা বা কফি খাওয়ার পর হার্টবিট বেড়ে যাওয়া কি স্বাভাবিক?

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ (যেমন দিনে ৩-৪ কাপের বেশি চা বা কফি) অনেকেরই হার্টবিট সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং ক্যাফেইনের প্রভাব কমে গেলে ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি অল্প ক্যাফেইনেও বা নিয়মিতভাবে এমন হয়, তাহলে ব্যক্তির ক্যাফেইন সংবেদনশীলতা বেশি হতে পারে। এছাড়া ক্যাফেইনের সঙ্গে অন্য কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে সতর্ক থাকা উচিত।

হার্টবিট বেড়ে যাওয়া এবং প্যানিক অ্যাটাকের মধ্যে পার্থক্য কী?

প্যানিক অ্যাটাকের সময় সাধারণত তীব্র ভয়, অস্বস্তি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, মৃত্যুভয়, এবং বুক ধড়ফড় একসঙ্গে আসে। অন্যদিকে শুধু হার্টবিট বেড়ে যাওয়া (প্যালপিটেশন) হলে মানসিক ভয়ের তীব্রতা কম থাকে এবং শারীরিক কারণ (যেমন ব্যায়াম, জ্বর, ডিহাইড্রেশন) স্পষ্ট থাকে। তবে পার্থক্য করা সবসময় সহজ নয়। যদি বারবার হয় এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাংলাদেশে সাধারণত কী কী পরীক্ষা করা হয় হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে?

প্রথম ধাপে সাধারণত ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম) করা হয়, যা হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ দেখে। যদি সমস্যা মাঝে মাঝে হয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার হোল্টার মনিটরিং বা ইভেন্ট রেকর্ডার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোন, ইলেক্ট্রোলাইট, এবং রক্তস্বল্পতা দেখা হয়। প্রয়োজনে ইকোকার্ডিওগ্রাম (হার্টের আল্ট্রাসাউন্ড) বা ট্রেডমিল টেস্টও করা হতে পারে। তবে সব পরীক্ষা সব রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় নয়; চিকিৎসক লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া (কিছু লিংক বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান পাতা):

Rate this post